বীরভূমে বিজেপিতে ব্যাপক ভাঙ্গন
দি নিউজ লায়ন; বীরভূমে বিজেপিতে ব্যাপক ভাঙ্গন। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের ওপর আস্থা না রাখতে পেরে দলে দলে বিজেপির নিচুতলার কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করছে । বিষ্ণু প্রসাদ সরকার গতকাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিজেপির নানুর সি-মণ্ডল সম্পাদক। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। আজ তুলে নিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা।
শুধু তিনি নন, বিজেপির শিবিরে বড়সড় ভাঙ্গন ধরিয়ে আজ প্রায় একহাজার জন বিজেপি কর্মী সমর্থক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন।
নানুর বিধানসভার অন্তর্গত নোয়ানগর কড্ডা, জুলুন্দি ও থুপসরা – এই তিনটি অঞ্চল থেকে প্রায় একহাজার বিজেপির কর্মী এবং সমর্থক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। তাদের শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা বীরভূম জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কেরিম খান।
বিষ্ণু প্রসাদ সরকার অভিযোগ করেন যে গত ৩৪ বছর ধরে তিনি বিজেপি করলেও, দলে কখনো যোগ্য সম্মান পাননি। সেইসঙ্গে বর্তমানে যেভাবে দল চলছে তা নিয়েও তার বেশ কিছু অসন্তোষ রয়েছে। তাই এদিন তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন যে দীর্ঘ দিন তিনি জেলবন্দি থাকাকালীন তার পরিবারের পাশে বিজেপির কোন নেতা-নেত্রীর বা স্থানীয় কোন নেতৃত্ব দাঁড়াননি এমনকি কোনো খোঁজ-খবর রাখেন নি, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং কার্যত তাদের তৎপরতায় তিনি জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন, তাই দ্বিতীয়বার কোন চিন্তা না করেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব এবং জেলা নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সমস্ত গ্রাম ছাড়া গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই সকলকে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘরে ফেরা এই সমস্ত গ্রামবাসীরা তারা সপরিবারে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বলেও জানিয়েছেন কেরিম খান।
তিনি বলেন, “যারা আজকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন তারা আজীবন তৃণমূল কংগ্রেসের থাকবেন বলেও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে বিগত কয়েকদিন ধরেই জেলায় বিজেপি ছেড়ে বহু কর্মী এবং সমর্থক তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও গ্রামে মাইক করে ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে বিজেপি কর্মীদের, কোথাও আবার হাতে ‘বিজেপি করে করেছি ভুল / এবার আমরা তৃণমূল’ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এইরকম ভাবে দলের নিচুতলার কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসের চলে যাওয়ায় কার্যত অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে বীরভূম জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও বিজেপি নেতাদের দাবি যারা চলে যাচ্ছে তাদের জন্য বিজেপির কোন ক্ষতি হবে না।

Post a Comment